মূল লেখায় যান
নাগামাতসু ফারুক永松ファルク
নীতি-প্রবন্ধখসড়া · পর্যালোচনাধীনপ্রকাশ: · পড়তে লাগবে: ৩ মিনিট

TITP-এর বদলে আসছে ‘ইকুসেই-শূরো’: ২০২৭-এর আগে বাংলাদেশকে যা তৈরি করতে হবে

২০২৪ সালের জুনে জাপানের সংসদ তিন দশকের পুরোনো টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP) বাতিল করে ‘ইকুসেই-শূরো’ (育成就労 — দক্ষতা-উন্নয়নমূলক কর্মসংস্থান) ব্যবস্থা আইন করেছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হবে। নতুন ব্যবস্থায় তিন বছরে কর্মীকে SSW-১ স্তরে তুলতে হবে, শর্তসাপেক্ষে চাকরি বদলের অধিকার থাকবে, আর যাওয়ার আগে জাপানি ভাষার একটি ন্যূনতম স্তর লাগবে। বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ, ভাষা ও প্রেরণ-ব্যবস্থা এখনই সেই ছকে সাজানো দরকার।

তাঁর প্রকাশিত অবস্থান থেকে তাঁর ধাঁচে প্রস্তুত খসড়া; তাঁর অনুমোদন এখনো নেই। লেখায় ‘আমরা’ বলতে BSSAJ-এর অবস্থান।

১৯৯৩ সাল থেকে চলা টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP) ‘প্রশিক্ষণ’ নামে চললেও বাস্তবে ছিল শ্রমিক আনার ব্যবস্থা — আর তার সবচেয়ে বড় সমালোচনা ছিল কর্মীর চাকরি বদলের সুযোগ না থাকা ও প্রেরণ-খরচের বোঝা। ২০২৪ সালের ১৪ জুন জাপানের সংসদ এই ব্যবস্থা বাতিল করে ‘ইকুসেই-শূরো’ (育成就労) আইন পাস করে; ২১ জুন আইনটি প্রকাশিত হয় এবং তিন বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের মধ্যে, নতুন ব্যবস্থা চালু হবে।

নতুন ব্যবস্থায় কী বদলাচ্ছে

TITP বনাম ইকুসেই-শূরো
বিষয়TITP (বিদায়ী)ইকুসেই-শূরো (২০২৭ থেকে)
ঘোষিত উদ্দেশ্যপ্রযুক্তি হস্তান্তর (আন্তর্জাতিক সহযোগিতা)দক্ষ জনশক্তি গড়ে SSW-১ স্তরে তোলা
মেয়াদসর্বোচ্চ ৫ বছরমূলত ৩ বছর
চাকরি বদলকার্যত নিষিদ্ধএকই খাতে, ১–২ বছর পর, শর্তসাপেক্ষে সম্ভব
ভাষাকোনো বাধ্যবাধকতা নেইপ্রবেশে A1/N5 (বা সমমান প্রশিক্ষণ); SSW-১-এ যেতে A2/N4
খাত৯০টির বেশি পেশাSSW-এর খাতের সাথে সমন্বিত
প্রেরণ-খরচকর্মীর ঘাড়েনিয়োগদাতার ভাগ ও প্রকাশ্য নিয়ম
সূত্র: জাপানের অভিবাসন সেবা সংস্থার (出入国在留管理庁) ব্যাখ্যামূলক নথি ও ২০২৪ সালের সংশোধিত আইন। বিস্তারিত বিধি সরকারি অধ্যাদেশে চূড়ান্ত হচ্ছে; স্তর ও শর্ত সেই অনুযায়ী সামান্য বদলাতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ

জাপানে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কর্ম-পথটি এখন স্পষ্টভাবে ‘ভাষা → তিন বছর → SSW’ — এই সিঁড়িতে পরিণত হয়েছে। যে দেশ যাওয়ার আগেই A1/N5 স্তরের কর্মী দিতে পারবে, স্বচ্ছ খরচে পাঠাতে পারবে এবং তিন বছরে A2/N4-এ তুলতে পারবে, নিয়োগদাতারা সে দেশকেই বেছে নেবে। আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভাষা শিখতে পারেন — সমস্যা পরীক্ষার আসন, প্রশিক্ষণের মান আর খরচের অস্বচ্ছতায়।

  • ভাষা: JFT-Basic ও JLPT N5-এর আসন বাংলাদেশে এখনই বাড়াতে হবে; ‘ভাষা-পরীক্ষার আসন-সংকট’ প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, এখনই ২০ শতাংশ প্রার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেন না।
  • খাত: SSW-এর ১৬টি খাতের সাথে মিলিয়ে প্রশিক্ষণ — নার্সিং কেয়ার, নির্মাণ, কৃষি, খাদ্যসেবা ও পরিবহনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
  • খরচ: প্রেরণ-সংস্থার ফি প্রকাশ্য সীমার মধ্যে আনা এবং রসিদ বাধ্যতামূলক করা — নইলে চাকরি-বদলের অধিকার পেয়ে কর্মীরা যে নিয়োগদাতাকে ছাড়বেন, তার দায় এসে পড়বে বাংলাদেশের ওপরই।

সুপারিশ

কে কী করবে — সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট করণীয়, যার প্রতিটি যাচাই করা যায়।

  1. 01প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও BMET-এর অধীনে ইকুসেই-শূরোর ১৬টি খাতের সাথে মিলিয়ে একটি জাতীয় প্রশিক্ষণ-ছক তৈরি করা হোক।
  2. 02যাওয়ার আগে JFT-Basic বা JLPT N5 বাধ্যতামূলক করা হোক, আর সেই পরীক্ষার আসন বাংলাদেশে পর্যাপ্ত করা হোক।
  3. 03প্রেরণ-খরচের একটি প্রকাশ্য সর্বোচ্চ সীমা ও রসিদ-ব্যবস্থা চালু হোক — নতুন আইনে খরচের বোঝা কর্মীর ঘাড় থেকে সরানোই মূল কথা।
  4. 04COE-প্রত্যাখ্যাত শিক্ষার্থী ও N4-ধারীদের জন্য ইকুসেই-শূরো/SSW-এ যাওয়ার একটি সরকারি পথনির্দেশিকা।

উৎস

উদ্ধৃতি: Nagamatsu Faruk (2026). ‘Ikusei Shuro’ replaces TITP: what Bangladesh must have ready before 2027. https://nagamatsufaruk.com/en/research/ikusei-shuro-what-bangladesh-must-prepare