মূল লেখায় যান
নাগামাতসু ফারুক永松ファルク
নীতি-প্রবন্ধখসড়া · পর্যালোচনাধীনপ্রকাশ: · পড়তে লাগবে: ৩ মিনিট

৪ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও স্বীকৃত ভাষা-স্কুলের নতুন আইন: বাংলাদেশের করণীয়

২০২৩ সালে জাপান সরকার ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী গ্রহণের লক্ষ্য ঘোষণা করে; ২০২৪ সালের মে মাসে সংখ্যাটি রেকর্ড ৩,৩৬,৭০৮-এ পৌঁছায়। একই সময়ে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর ‘জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি আইন’ অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে কেবল সরকার-স্বীকৃত (認定) স্কুলই শিক্ষার্থী-ভিসায় ভর্তি নিতে পারবে। বাংলাদেশের জন্য সুযোগ বিশাল — শর্ত, স্কুল বাছাই ও শিক্ষার্থীর মান।

তাঁর প্রকাশিত অবস্থান থেকে তাঁর ধাঁচে প্রস্তুত খসড়া; তাঁর অনুমোদন এখনো নেই। লেখায় ‘আমরা’ বলতে BSSAJ-এর অবস্থান।

জাপান বহু বছর ‘৩ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী’ লক্ষ্য নিয়ে চলেছে এবং ২০১৯ সালেই তা ছুঁয়েছিল। কোভিডের পর, ২০২৩ সালের এপ্রিলে, শিক্ষা-ভবিষ্যৎ সৃজন পরিষদ (教育未来創造会議) নতুন লক্ষ্য দেয়: ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী জাপানে, আর ৫ লাখ জাপানি শিক্ষার্থী বিদেশে। JASSO-র জরিপে ২০২৪ সালের ১ মে জাপানে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন ৩,৩৬,৭০৮ জন — ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

নতুন স্বীকৃতি আইন

একই সময়ে জাপান ভাষা-স্কুলের মান নিয়ে কঠোর হয়েছে। ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর ‘জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি আইন’ (日本語教育機関認定法) অনুযায়ী শিক্ষামন্ত্রীর স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানই (認定日本語教育機関) ‘留学’ কোর্স চালাতে পারবে; পুরোনো স্কুলগুলোর জন্য পাঁচ বছরের রূপান্তর-কাল, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে স্বীকৃতি না পেলে তারা শিক্ষার্থী-ভিসায় ভর্তি নিতে পারবে না। সঙ্গে চালু হয়েছে নিবন্ধিত জাপানি ভাষা-শিক্ষকের (登録日本語教員) জাতীয় সনদ।

বাংলাদেশের জন্য দুই দিকের হিসাব

  • সুযোগ: ৪ লাখের লক্ষ্য পূরণে জাপানের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন উৎস-দেশ খুঁজছে। রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, চার বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ হয়েছে; টোকিও ও সেন্দাইয়ের সেমিনারে স্কুলগুলোর আগ্রহ আমরা নিজেরাই দেখেছি।
  • ঝুঁকি: অ-স্বীকৃত বা দুর্বল স্কুলে গেলে ২০২৯-এর পর শিক্ষার্থী মাঝপথে আটকে যেতে পারেন; আর দুর্বল প্রস্তুতির শিক্ষার্থী বেশি পাঠালে বাংলাদেশের COE-প্রত্যাখ্যান হার (এখন ১৫–২০%) আরও বাড়বে — যা পুরো দেশের ভাবমূর্তিকে টেনে নামায়।
একটি স্বীকৃত স্কুল বাছাইয়ের ছয়টি প্রশ্ন
প্রশ্নকোথায় যাচাই
স্কুলটি কি 認定日本語教育機関 তালিকায় আছে?শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (文部科学省) প্রকাশ্য তালিকা
গত দুই বছরে বাংলাদেশি আবেদনকারীর COE হার কত?স্কুলের কাছে সরাসরি; AJLIB সদস্যদের অভিজ্ঞতা
শিক্ষার্থীদের কত শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজে ওঠেন?স্কুলের প্রকাশিত ফলাফল
আবাসন ও পার্ট-টাইম সহায়তা আছে কি?ভর্তি-নথি
টিউশন ও অন্যান্য ফি লিখিত ও স্বচ্ছ?ফি-তালিকা
শহরে জীবনযাত্রার খরচ শিক্ষার্থীর সামর্থ্যে?আমাদের ‘২৮ ঘণ্টা’ প্রবন্ধের খরচ-সারণি

সুপারিশ

কে কী করবে — সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট করণীয়, যার প্রতিটি যাচাই করা যায়।

  1. 01AJLIB ও BSSAJ-এর জন্য স্বীকৃত (認定) জাপানি ভাষা-স্কুলের একটি হালনাগাদ তালিকা ও অংশীদারি-নেটওয়ার্ক; অ-স্বীকৃত স্কুলে শিক্ষার্থী না পাঠানোর নীতি।
  2. 02বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় ঢাকায় বার্ষিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা, যেখানে স্বীকৃত স্কুলগুলো সরাসরি ভর্তি-সাক্ষাৎকার নেবে।
  3. 03শিক্ষার্থী-ভিসায় যাওয়ার আগে ন্যূনতম N5 ও আর্থিক নথির একটি জাতীয় মান — যাতে বাংলাদেশের COE-প্রত্যাখ্যান হার (১৫–২০%) নামিয়ে আনা যায়।

উৎস

  • Council for the Creation of Future Education (教育未来創造会議), second recommendation, April 2023 — 400,000 inbound international students by 2033
  • JASSO — Survey on international students in Japan (as of 1 May 2024): 336,708 international students
  • Act on the Accreditation of Japanese Language Education Institutions (日本語教育機関認定法), in force 1 April 2024; transition period to 2029
  • Nagamatsu Faruk — memorandum to the Ambassador of Bangladesh to Japan, May 2025এই সাইটের প্রথম পাঁচটি প্রকাশনায় ব্যবহৃত মূল নথি।

উদ্ধৃতি: Nagamatsu Faruk (2026). Japan's 400,000-student target and the new accredited-school law: what Bangladesh should do. https://nagamatsufaruk.com/en/research/japan-400000-students-accredited-schools