মূল লেখায় যান
নাগামাতসু ফারুক永松ファルク
পরিচয়

পরিচয় ও পথচলা

ঢাকায় জন্ম। ২০০০ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি, ২০০৯ সালে জাপানের নাগরিকত্ব। দুই রাষ্ট্রের ভাষা, প্রশাসন ও প্রত্যাশা একসঙ্গে পড়তে পারার ক্ষমতা — এই একটি যোগ্যতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁর দুই দশকের কাজ।

নাগামাতসু ফারুক永松ファルクNagamatsu Faruk

এক নজরে

আইনি নাম
Mohammad Omar Faruk
অন্য বানান
Faruq Nagamatsu · নাগামাতসু ফারুক · 永松ファルク
পেশাগত পরিচয়
উদ্যোক্তা ও সংগঠক — শিক্ষা-অভিবাসন ও জনশক্তি উন্নয়ন খাত
জন্মস্থান
ঢাকা, বাংলাদেশ
শিক্ষা
রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি (APU), 2000–2004 · জাপান সরকারের বৃত্তি · তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা
বাসস্থান
এদোগাওয়া, টোকিও
কর্মক্ষেত্র — জাপান
টোকিও (প্রধান কার্যালয়), ওসাকা, সেন্দাই, নাগোইয়া, কোবে
কর্মক্ষেত্র — বাংলাদেশ
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী
Nagamatsu Faruk

সংক্ষিপ্ত পটভূমি

নাগামাতসু ফারুকের কাজের কেন্দ্র একটিই: বাংলাদেশ থেকে জাপানে শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তির যাত্রাপথ — যা আজও বহুলাংশে ব্যক্তির ভাগ্য ও মধ্যস্বত্বভোগীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল — তাকে নিয়ম, নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা। এই লক্ষ্যে তিনি একই সঙ্গে দুই দিক থেকে এগোন: প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি সেবা, সংগঠনের মাধ্যমে নীতি-পর্যায়ের সংলাপ; একটির অভিজ্ঞতা অন্যটির যুক্তি জোগায়। ঢাকায় জন্ম; শিক্ষাজীবনের একটি পর্ব তেজগাঁও কলেজে, তারপর ২০০০ সালে জাপান সরকারের বৃত্তিতে রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি — জাপানের সবচেয়ে আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাসগুলোর একটি। বাংলাদেশ ও জাপান, দুই সমাজের ভাষা, প্রশাসনিক রীতি আর প্রত্যাশা একই সঙ্গে পড়তে পারার ক্ষমতাই পরে তাঁর কাজের প্রধান সম্পদ হয়ে দাঁড়ায়; আর সেই সম্পদ তিনি ব্যয় করেন একটিমাত্র কাজে — দুই রাষ্ট্রকে একই সংখ্যা দেখানো।

জীবনের মাইলফলক

  1. জীবন

    জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জাপানে আসেন; ভর্তি হন রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে (APU)

    স্থান:
    বেপ্পু, ওইতা
  2. ব্যবসা

    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে পড়তে আসার পরামর্শ দেওয়া শুরু — যে কাজ আজও চলছে

  3. জীবন

    রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক

  4. জীবন

    জাপানের নাগরিকত্ব লাভ; জাপানি নাম হয় 永松ファルク (নাগামাতসু ফারুক)

  5. ব্যবসা

    টোকিওতে রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা; চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন

    স্থান:
    হিরাই, এদোগাওয়া, টোকিও
  6. সংগঠন

    বাংলাদেশি স্টুডেন্টস সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন জাপান (BSSAJ) প্রতিষ্ঠা; ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত

নেতৃত্বের ধরন ও কর্মদর্শন

চরিত্রের বর্ণনা নয়, আচরণের নথি — প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের পাশে তা কোথায় দেখা গেছে।

সমষ্টিগত কৃতিত্ব

“আমি নয়, আমরা” — নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর নিজের কথা। সাফল্যের ঘোষণায় বরাবর দলের ও সহকর্মীদের নাম আসে, নিজের কৃতিত্ব নয়।

স্বচ্ছতা

সুখবরের মতো দুঃসংবাদও নিজে জানান, কারণসহ। টোকিওর একটি স্কুলে সাতজনের মধ্যে পাঁচজন প্রত্যাখ্যাত হলে সেই সংখ্যা তিনি নিজেই প্রকাশ করেন এবং পরের সেমিস্টারে আবার চেষ্টার পথ দেখান — আশ্বাস নয়, হিসাব।

ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টি

সমালোচনার জবাবে তাঁর অবস্থান একটিই: কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত নয় — আর কেবল ত্রুটি গোনা কোনো নীতি নয়।

ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোযোগ

শিক্ষার্থীদের নাম ধরে অভিনন্দন, বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, অনুপ্রেরণার জন্য সম্মাননার উদ্যোগ।

প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা

আহ্বায়ক কমিটি, বার্ষিক কার্যবিবরণী, লিখিত আমন্ত্রণ, স্পনসর ঘোষণা — প্রতিটি আয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় বাঁধা, যাতে একজনের অনুপস্থিতিতেও সংগঠন চলে।

কৃতজ্ঞতাবোধ

প্রতিটি অর্জনের ঘোষণা শুরু হয় কৃতজ্ঞতা দিয়ে — দূতাবাস, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি।

নৈতিক অভিবাসন

প্রতারণা থেকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা, অননুমোদিত মাধ্যমে আবেদনের ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্য সতর্কবার্তা, আর জাপানগামী এজেন্সি মালিকদের প্রতি মানসম্মত চর্চার আহ্বান — ‘এথিক্যাল মাইগ্রেশন’ তাঁর বক্তব্যের নিয়মিত সূত্র।

সভাপতির কথা

আমি নাগামাৎসু ফারুক। ২০০০ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথম জাপানে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই বুঝতে পারি, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান হতে পারে এক অসাধারণ সম্ভাবনার দেশ। সেই ভাবনা থেকেই ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এখন আমি রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আর জাপানে থাকা দক্ষ কনসালট্যান্টদের নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন জাপান (BSSAJ) প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সভাপতি হিসেবে সংগঠনটির দায়িত্বে আছি।

BSSAJ গড়ার মূল উদ্দেশ্য একটাই — বাংলাদেশ থেকে যাঁরা জাপানে আসছেন, তাঁরা যেন আসার আগেই ভাষা, সংস্কৃতি, নিয়ম-কানুন আর আচার-আচরণে তৈরি হয়ে আসেন, যাতে জাপানের আধুনিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজে সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। পাশাপাশি যাঁরা ইতিমধ্যে জাপানের শ্রমবাজারে আছেন, তাঁদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকা, আর জাপানের ভাষা-স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মী নিতে উৎসাহিত করাও আমাদের লক্ষ্য।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলীর প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। দূতাবাসের সঙ্গে মিলে আমরা নিয়মিত নীতি-সংলাপ, শিক্ষাবিষয়ক আলোচনা, বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজ করছি — যা শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন নতুন সুযোগ খুলে দিচ্ছে।

আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশে BSSAJ টাওয়ার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি — যেখানে থাকবে ভাষা শিক্ষা, জাপানি সংস্কৃতি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও গবেষণার জন্য একটি আধুনিক রিসার্চ সেন্টার। এই কেন্দ্র থেকে আমরা সারা বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজ ছড়িয়ে দেব, ইনশাআল্লাহ।

— নাগামাৎসু ফারুক, সভাপতি, BSSAJ

কপি করার মতো জীবনী

আয়োজক ও সাংবাদিকদের জন্য — হুবহু ব্যবহার করা যাবে।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাগামাতসু ফারুক (永松ファルク) বাংলাদেশি স্টুডেন্টস সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন জাপান (BSSAJ)-এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এবং টোকিওর রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ২০০০ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জাপানে আসা এই রিৎসুমেইকান APU স্নাতক ২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ২০০৯ সাল থেকে জাপানের নাগরিক।

মাঝারি জীবনী

নাগামাতসু ফারুক (永松ファルク; আইনি নাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক) ২০০০ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে পড়তে জাপানে আসেন এবং ২০০৪ সালে স্নাতক হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই, ২০০২ সালে, তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে পড়তে আসার পরামর্শ দেওয়া শুরু করেন — যে কাজ আজও চলছে। ২০০৯ সালে তিনি জাপানের নাগরিকত্ব পান। ২০১৯ সালে টোকিওতে প্রতিষ্ঠা করেন রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড — শিক্ষা ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র, রেমিট্যান্স, খাদ্য ও গাড়ি রপ্তানি নিয়ে একটি বহুমুখী প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশি স্টুডেন্টস সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন জাপান (BSSAJ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সভাপতি নির্বাচিত হন। টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী-ভিসা, ভাষা-পরীক্ষার সুযোগ ও দক্ষ জনশক্তি নিয়ে তিনি তথ্যভিত্তিক নীতি-সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পূর্ণ জীবনী

নাগামাতসু ফারুক (永松ファルク; আইনি নাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন জাপানি নাগরিক, যিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে জাপানের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করছেন।

২০০০ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিনি রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে (APU) পড়তে আসেন এবং ২০০৪ সালে স্নাতক হন। পড়ার সময়ই তিনি টের পান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান কতটা সম্ভাবনাময় — আর ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া শুরু করেন। ২০০৯ সালে তিনি জাপানের নাগরিকত্ব পান।

২০১৯ সালে টোকিওর এদোগাওয়ায় তিনি রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে রয়েছে জাপান এডুকেশন অ্যান্ড জব সেন্টার (JEJC), SBI রেমিট এজেন্সি, ঘরের স্বাদ রেস্টুরেন্ট, ঘরের বাজার গ্রোসারি, মুহাম্মদ কারস ও মুহাম্মদ ট্রেডিং এবং মাদরাসা জালওয়া-এ-হেরা।

২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি সমমনা কনসালট্যান্টদের নিয়ে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন জাপান (BSSAJ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনে সভাপতি হন। তাঁর নেতৃত্বে BSSAJ ঢাকায় শিক্ষার্থী-সচেতনতা সেমিনার, জাপানি ভাষার বক্তৃতা প্রতিযোগিতা (২০২৫ সালে প্রায় ৬৫০ জন অংশ নেন), JLPT-উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা এবং টোকিও ও সেন্দাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে জাপানি ভাষা-স্কুলগুলোর জন্য যৌথ সেমিনার আয়োজন করেছে।

তাঁর নীতি-কাজের কেন্দ্রে আছে তথ্য। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে ৯,২৭৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাপানে এসেছেন, আর তাঁর বিশ্লেষণ বলছে, জাপান থেকে রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস এই শিক্ষার্থীরাই। এর ভিত্তিতে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০২৬–২০৩০ সালে ৫৫,০০০ শিক্ষার্থী পাঠানোর পরিকল্পনা, COE-প্রত্যাখ্যাত শিক্ষার্থীদের জন্য SSW-এর পথ এবং ভাষা-পরীক্ষার আসন বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। আগামী দুই-তিন বছরে বাংলাদেশে BSSAJ টাওয়ার ও রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলা তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য।