SSW-এর ৮,২০,০০০ কোটা ও ১৬টি খাত: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে
২০২৪ সালের ২৯ মার্চ জাপানের মন্ত্রিসভা ২০২৪–২০২৮ অর্থবছরে Specified Skilled Worker (SSW-১) গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ৮,২০,০০০ নির্ধারণ করে — আগের পাঁচ বছরের (৩,৪৫,১৫০) দ্বিগুণেরও বেশি — এবং সড়ক পরিবহন, রেল, বনায়ন ও কাঠশিল্প যোগ করে খাতের সংখ্যা ১৬-তে তোলে। বাংলাদেশ ২০১৯ সালেই SSW সহযোগিতা স্মারকে সই করেছে, কিন্তু ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন বা মিয়ানমারের তুলনায় আমাদের অংশ এখনো ছোট। কারণ ও করণীয় — দুটোই মাপা যায়।
তাঁর প্রকাশিত অবস্থান থেকে তাঁর ধাঁচে প্রস্তুত খসড়া; তাঁর অনুমোদন এখনো নেই। লেখায় ‘আমরা’ বলতে BSSAJ-এর অবস্থান।
Specified Skilled Worker (特定技能) ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৯ সালের এপ্রিলে। প্রথম পাঁচ বছরে (২০১৯–২০২৩) গ্রহণের সীমা ছিল ৩,৪৫,১৫০। ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ মন্ত্রিসভা পরের পাঁচ বছরের সীমা ঠিক করে ৮,২০,০০০ — অর্থাৎ জাপান বলছে, তারা প্রতি বছর গড়ে ১.৬ লাখের বেশি দক্ষ বিদেশি কর্মী নিতে চায়। একই সিদ্ধান্তে সড়ক পরিবহন (বাস, ট্যাক্সি, ট্রাক), রেল, বনায়ন ও কাঠশিল্প — এই চারটি নতুন খাত যোগ হয়ে মোট খাত দাঁড়ায় ১৬টি।
বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে
বাংলাদেশ ২০১৯ সালের ২৭ আগস্টই জাপানের সঙ্গে SSW সহযোগিতা স্মারক সই করে — প্রথম সারির দেশগুলোর একটি হিসেবে। তবু ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মিয়ানমার যেখানে হাজারে হাজারে SSW কর্মী পাঠাচ্ছে, বাংলাদেশের সংখ্যা সেই তুলনায় ছোট। কারণটা চাহিদার নয়, সরবরাহের: SSW-এ ঢোকার দুটি দরজা আছে — ভাষা-পরীক্ষা (JFT-Basic বা JLPT N4) আর খাতভিত্তিক দক্ষতা-পরীক্ষা — আর দুটোরই আসন বাংলাদেশে অপ্রতুল। আমাদের আলাদা প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, JFT-Basic-এর আসন খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
| খাত | বাংলাদেশের সম্ভাবনা | কেন |
|---|---|---|
| নার্সিং কেয়ার | উচ্চ | জাপানের সবচেয়ে বড় চাহিদা; তরুণ জনশক্তি |
| নির্মাণ | উচ্চ | মধ্যপ্রাচ্যে প্রমাণিত অভিজ্ঞতা |
| কৃষি | উচ্চ | গ্রামীণ পটভূমির প্রার্থী |
| খাদ্যসেবা ও খাদ্য-উৎপাদন | মাঝারি–উচ্চ | জাপানে থাকা শিক্ষার্থীদের পার্ট-টাইম অভিজ্ঞতা |
| সড়ক পরিবহন (নতুন) | মাঝারি | জাপানি লাইসেন্স ও ভাষা-স্তর বেশি লাগে |
| অন্যান্য ১১টি খাত | খাতভেদে | দক্ষতা-পরীক্ষা বাংলাদেশে হলে সম্ভাবনা বাড়ে |
শিক্ষার্থী-পথ: বাংলাদেশের অদৃশ্য শক্তি
আমাদের স্মারকলিপির হিসাবে প্রতি সেমিস্টারে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী COE পান না, আর তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে N4 পর্যন্ত পড়েছেন। এই তরুণেরাই SSW-এর সবচেয়ে প্রস্তুত প্রার্থী: ভাষা আছে, জাপান নিয়ে প্রস্তুতি আছে, পরিবারের বিনিয়োগ আছে। ২৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধিতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালে এই পথে ৮,২০৬ জন SSW কর্মী পাঠানো সম্ভব — শুধু শিক্ষা-পরামর্শ প্রতিষ্ঠানগুলোকে SSW-এর কাজে যুক্ত করলেই।
সুপারিশ
কে কী করবে — সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট করণীয়, যার প্রতিটি যাচাই করা যায়।
- 01বাংলাদেশে SSW-এর খাতভিত্তিক দক্ষতা-পরীক্ষা (নার্সিং কেয়ার, নির্মাণ, কৃষি, খাদ্যসেবা) নিয়মিত আয়োজনের জন্য জাপানের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-সংস্থার সঙ্গে সরকারি সমঝোতা।
- 02JFT-Basic-এর আসন ও কেন্দ্র বাড়ানো — ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে।
- 03COE-প্রত্যাখ্যাত ও N4-ধারী শিক্ষার্থীদের জন্য SSW-এ যাওয়ার সরকারি কাউন্সেলিং ডেস্ক — BMET ও AJLIB-এর যৌথ পরিচালনায়।
- 04নিয়োগ-খরচে ‘শূন্য-খরচ’ নীতির দিকে যাওয়া — নিয়োগদাতা-বহনকৃত খরচের মডেল, যেমনটি জাপানি নিয়োগদাতারা এখন চাইছেন।
উৎস
- Cabinet decision of 29 March 2024 — Specified Skilled Worker acceptance ceiling FY2024–2028 and four added fields
- Memorandum of Cooperation on the Specified Skilled Worker system between Japan and Bangladesh, 27 August 2019
- Nagamatsu Faruk — memorandum to the Ambassador of Bangladesh to Japan, May 2025এই সাইটের প্রথম পাঁচটি প্রকাশনায় ব্যবহৃত মূল নথি।
উদ্ধৃতি: Nagamatsu Faruk (2026). The 820,000 SSW ceiling and sixteen fields: where Bangladesh stands. https://nagamatsufaruk.com/en/research/ssw-820000-cap-bangladesh-position