জাপান থেকে রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস শিক্ষার্থীরাই: ২০২২–২০২৪ সালের তথ্য
জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে তিন বছরে ৯,২৭৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাপানে এসেছেন। একজন শিক্ষার্থীর মাসিক আয়-ব্যয়ের রক্ষণশীল হিসাবেও বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা সঞ্চয় হয় — যা একজন TITP বা SSW কর্মীর পাঠানো টাকার কয়েক গুণ। অথচ সরকারের জনশক্তি-পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের কোনো জায়গাই নেই।
এই নথি নাগামাতসু ফারুক BSSAJ-এর সভাপতি হিসেবে নিজে পেশ করেছেন। লেখায় ‘আমরা’ বলতে BSSAJ।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ২,৭০০ থেকে ৩,৫০০ জন শিক্ষার্থী জাপানে আসছেন। সরকার TITP আর SSW নিয়ে পরিকল্পনা করছে, টাকা খরচ করছে — কিন্তু যাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ শিক্ষার্থীদের পথে একটু পরিকল্পনা থাকলেই বছরে দশ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাঠানো যায়, আর দেশে আসে হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স।
কতজন এসেছেন
| বছর | মোট আবেদন | ভিসা পেয়েছেন | বাতিল | অনুমোদনের হার |
|---|---|---|---|---|
| 2022 | 3,450 | 2,760 | 690 | 80% |
| 2023 | 4,210 | 3,155 | 1,055 | 75% |
| 2024 | 4,800 | 3,360 | 1,440 | 70% |
| মোট | 12,460 | 9,275 | 3,185 | 74.4% |
তিন বছরে COE পাওয়ার পরও ৩,১৮৫ জনের ভিসা বাতিল হয়েছে — অর্থাৎ ২৫.৬ শতাংশ। পাশের দেশ নেপালে COE আসার পর ভিসা বাতিলের হার মাত্র ১ শতাংশের মতো। এই ব্যবধান কমানো গেলে বাংলাদেশ থেকে COE পাওয়া আরও ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জাপানে আসতে পারতেন।
একজন শিক্ষার্থী কত টাকা পাঠাতে পারেন
একজন শিক্ষার্থী সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা — মাসে প্রায় ১২০ ঘণ্টা — কাজের অনুমতি পান। জাপানে ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১,৩০০ থেকে ২,২০০ ইয়েন। স্মারকলিপির হিসাবে ধরা হয়েছে মাসে ২৩০ ঘণ্টা কাজ, ঘণ্টায় ১,৩০০ ইয়েন — অর্থাৎ মাসে ২,৯৯,০০০ ইয়েন আয়। মাসের খরচ এ রকম:
| খাত | ইয়েন / মাস |
|---|---|
| টিউশন ফি | 60,000 |
| বাসাভাড়া | 25,000 |
| খাবার | 15,000 |
| বিদ্যুৎ | 5,000 |
| যোগাযোগ | 5,000 |
| অন্যান্য | 5,000 |
| মোট | 115,000 |
খরচ বাদে থাকে ২,৯৯,০০০ − ১,১৫,০০০ = ১,৮৪,০০০ ইয়েন, যা ০.৮৫ হারে মাসে প্রায় ১,৫৬,৪০০ টাকা। মাসে ১,৫০,০০০ টাকা সঞ্চয় ধরলে বছরে দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। এই হারে স্মারকলিপির ক্রমপুঞ্জিত হিসাবে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রায় ৩,২৩১ কোটি টাকা দেশে গেছে — যেকোনো কর্মভিসার তুলনায় দশ গুণ বেশি।
শিক্ষার্থীদের পথ কেন আলাদা
- চার বছর পড়াশোনার পর জাপানের বড় বড় কোম্পানিতে চাকরি, আর স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়।
- ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডায় পড়া শেষে কাজ না পেয়ে বেশির ভাগকেই দেশে ফিরতে হয়; জাপানে আইন মেনে চললে প্রায় সব শিক্ষার্থীই কাজ পান।
- শিক্ষার্থীরা কত রেমিট্যান্স পাঠান, সরকারের কাছে তার কোনো হিসাবই ছিল না — এই স্মারকলিপির উদ্দেশ্যই ছিল সেটি সামনে আনা।
সুপারিশ
কে কী করবে — সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট করণীয়, যার প্রতিটি যাচাই করা যায়।
- 01TITP ও SSW-এর মতো শিক্ষার্থীদের পথকেও জাতীয় জনশক্তি-পরিকল্পনায় সমান গুরুত্ব ও বাজেট দেওয়া হোক।
- 02শিক্ষার্থীরা যেন বৈধ পথে টাকা পাঠান, সে জন্য উৎসাহ দেওয়া হোক — বৈধভাবে পাঠালে ভিসার ক্ষতি হয়, এই ভুল ধারণা ভাঙা দরকার।
- 03দূতাবাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।
উৎস
- Japan Ministry of Justice — statistics on foreign residents (students from Bangladesh), 2022–2024
- Memorandum to the Ambassador of Bangladesh to Japan, May 2025 (Bengali)২০২৫ সালের মে মাসে টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে পেশ করা স্মারকলিপি। এখানে সংখ্যাগুলো হুবহু রাখা হয়েছে, ব্যাখ্যা সংক্ষেপ করা হয়েছে।
উদ্ধৃতি: Nagamatsu Faruk (2025). Students are the largest source of remittance from Japan: the 2022–2024 data. https://nagamatsufaruk.com/en/research/students-remittance-2022-2024