ভাষা-পরীক্ষার আসন-সংকট, আর সব সনদের সমান স্বীকৃতি
JLPT হয় বছরে দুবার, প্রতিবার ৬ থেকে ৭ হাজার আসন, যা দু-তিন দিনেই শেষ হয়ে যায় — ফলে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসারই সুযোগ পান না। JFT-Basic-এর আসন ফুরায় কয়েক ঘণ্টায়। জাপান সরকার দশটি পরীক্ষাকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশে বাস্তবে JLPT ছাড়া অন্য সনদে ভিসা পাওয়া কঠিন, অথচ অন্য দেশে যেকোনো একটি স্বীকৃত সনদই যথেষ্ট।
এই নথি নাগামাতসু ফারুক BSSAJ-এর সভাপতি হিসেবে নিজে পেশ করেছেন। লেখায় ‘আমরা’ বলতে BSSAJ।
বাংলাদেশে JLPT হয় বছরে দুবার, আর প্রতিবার ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন। রেজিস্ট্রেশন খোলার দু-তিন দিনের মধ্যেই আসন শেষ হয়ে যায়; ফলে ইচ্ছা থাকলেও ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেন না। আসন বাড়ানো বা প্রতি দুই মাসে পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধে কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে BSSAJ-এর চিঠিতে একই সমস্যা জাপানের দিক থেকে তোলা হয়েছে: JFT-Basic-এর আসন খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়; অনেকে সীমিত মেয়াদের ভাউচারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন, যাতে আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠান জাপানি ভাষা শেখাচ্ছে, SSW-প্রার্থীও বাড়ছে — কিন্তু পরীক্ষার ব্যবস্থাটাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সনদের স্বীকৃতি
জাপান সরকার শিক্ষার্থী-ভিসার জন্য JLPT, JPT, NAT-সহ দশটি পরীক্ষাকে সব দেশের জন্য স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে JLPT ছাড়া অন্য সনদধারীদের ভিসা পাওয়ার হার লক্ষণীয়ভাবে কম — জাপানি স্কুলগুলোও জানায়, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে JLPT ছাড়া ভিসা পাওয়া কঠিন। অন্য দেশে স্বীকৃত যেকোনো একটি সনদই যথেষ্ট। এই বৈষম্য দূর হলে ভিসা অনুমোদনের হার ৯৯ শতাংশে উঠতে পারে।
সুপারিশ
কে কী করবে — সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট করণীয়, যার প্রতিটি যাচাই করা যায়।
- 01JLPT ও JFT-Basic-এর আসন ও আয়োজনের সংখ্যা বাড়ানো (প্রস্তাব: প্রতি দুই মাসে একবার)।
- 02জাপান সরকারের স্বীকৃত সব ভাষা-সনদকে (JLPT, JPT, NAT, TOP-J, JFT ইত্যাদি) ভিসা যাচাইয়ে সমান মর্যাদা দেওয়া — অন্য দেশে যেমন দেওয়া হয়।
- 03COE পাওয়ার পর ভিসা বাতিলের হার (২৫.৬%) নেপালের (প্রায় ১%) চেয়ে এত বেশি কেন — তার স্বচ্ছ পর্যালোচনা।
উৎস
- Memorandum to the Ambassador of Bangladesh to Japan, May 2025 (Bengali)২০২৫ সালের মে মাসে টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে পেশ করা স্মারকলিপি। এখানে সংখ্যাগুলো হুবহু রাখা হয়েছে, ব্যাখ্যা সংক্ষেপ করা হয়েছে।
- Letter from BSSAJ to officials of Japan's Ministry of Foreign Affairs (Japanese and English)BSSAJ-এর সভাপতি হিসেবে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো আলোচনার আবেদন।
উদ্ধৃতি: Nagamatsu Faruk (2025). Language-test capacity and equal recognition of certificates. https://nagamatsufaruk.com/en/research/language-test-capacity